শিরোনাম
খবর বিজ্ঞপ্তি | ০৭:২০ পিএম, ২০২৬-১০-১০
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বিভিন্ন উপজেলায় ছুটছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি একের পর এক উপজেলায় কর্মসূচী মাধ্যমে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। সীতাকুন্ড ও কর্ণফুলী উপজেলার পর পর এবার হাটহাজারী উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছেন ডিসি জাহিদ। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি নিজেও মশকনিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
আজ ১০ অক্টোবর শনিবার হাটহাজারী পৌরসভাসহ ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৫টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার আয়োজনে সচেতনতামূলক র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক নিজেই পৌরসদরে ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ প্রয়োগ করেন। এ সময় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডও ছিটানো হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুন্ডে সাত দিনের বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিযানের জন্য সংগ্রহ করা হয় ১৬টি ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক। জেলা প্রশাসক নিজেও মশকনিধন ও নালা পরিষ্কারের কার্যক্রমে অংশ নেন।
পরে গত ৩ অক্টোবর শনিবার কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। সৈন্যারটেক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র্যালি শেষে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় মশকনিধন অভিযানের উদ্বোধন করেন। ওই দিন উপজেলার ১০টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোাগানে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনা থেকে অপসারণ করা হয় প্রায় ১৩৫ টন বর্জ্য। পরবর্তী সময়ে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন জলাশয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি। এর আওতায় জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা নির্ধারণ এবং পরীক্ষার কিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
হাটহাজারীর কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, অক্টোবর মাসে তা অনেকটাই কমেছে। ডেঙ্গুতে প্রাণহানিও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে কর্ণফুলীর কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুন্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে সীতাকুন্ডে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনার পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের কোনো একটা প্রাণ এভাবে হারিয়ে যাক, কোনো একটা বাতি এভাবে নিভে যাক। কারণ, আমাদের এই বাতিগুলো আমাদের আলোকিত করবে। একদিন বিশ্বমঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডিসি জাহিদ বলেন, কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য, চিন্তা ও পরিবেশ-সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু একটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না। কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সমাজের নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমেছে। চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত তিন মাসের আগেই জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।
খবর বিজ্ঞপ্তি : খাদ্যমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নিয়ে চট্টগ্রà¦...বিস্তারিত
খবর বিজ্ঞপ্তি : ফেনীতে রয়েল সিমেন্ট লিমিটেডের "ইঞ্জিনিয়ার স্পেশাল" (PCC CEM II/A-M, Grade 42.5N) সিমেন্টের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েà...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী, মাদক কারবারি ও বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুà...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাà...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতায় থাকা অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited